বাংলা সাহিত্যে কল্পনা, রহস্য ও আবেগের এক অনন্য সংযোজন হয়ে প্রকাশিত হলো জুই নাসরিনের নতুন বই ‘মায়াবনের রহস্য’। এই বইটি এক অসাধারণ দুই-প্রজন্মের কাহিনি—যেখানে মা ও মেয়ের জীবন জড়িয়ে আছে এক জাদুময় অরণ্যের সঙ্গে, যা সময়ের সীমা পেরিয়ে সাহস, কৌতূহল, অন্ধকার ও আশার গল্প বলে।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঝিলিক—সোনাপুর গ্রামের এক চঞ্চল, কৌতূহলী আট বছরের মেয়ে। এক সাধারণ দুপুরেই তার জীবনে ঘটে যায় অসাধারণ এক ঘটনা। আম-রঙা প্রজাপতির পথ ধরে ঝিলিক প্রবেশ করে মায়াবনে—এক জীবন্ত, রহস্যে ভরা অরণ্যে, যেখানে কথা বলে গাছ, নদী আর প্রাণীরা, আর প্রতিটি মুহূর্তে অপেক্ষা করে নতুন বিস্ময়। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ঝিলিক শিখে নেয় সাহস, সহানুভূতি ও নিজের অন্তর্নিহিত শক্তির পরিচয়।
সময় গড়ায়। ঝিলিক বড় হয়, মা হয়—কিন্তু মায়াবনের শিক্ষা ও জাদু তার জীবনে অমলিন থেকে যায়। গল্প তখন নতুন প্রজন্মে প্রবেশ করে, যখন তার মেয়ে তিন্নির যাত্রা শুরু হয়। তিন্নির অভিযান আরও গভীর, আরও রহস্যময়, আর আরও অন্ধকারে মোড়া—যা পাঠককে এক নতুন রোমাঞ্চের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
‘মায়াবনের রহস্য’ শিশু-কিশোরদের জন্য যেমন রোমাঞ্চকর ও কল্পনাময়, তেমনি প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্যও এটি এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা, যা হারিয়ে যাওয়া শৈশব, কল্পনার জগৎ এবং প্রজন্মান্তরের বন্ধনকে নতুন করে অনুভব করায়। জুই নাসরিনের সাবলীল ভাষা ও কল্পনাপ্রবণ বর্ণনা এই বইটিকে এক অনন্য সাহিত্যিক অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়েছে।